লানশীল, বি1হলাভী, জমণ-প্রিয়

মযমনসিতহ কালী নুরের পরা ষ্টনানা

1

চি

মাংপকার্য।

স্রগীয় পিভুদের

তারিণীকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী

ভু সন্দরাপ্ররান

[| গছ 9 গে

৯৪৯-৪০২২-সন,

চ্িক্কা |

অতি শৈশব হইতেই আমার হৃদয়ে ভ্রমণ-স্পহা জাগরিত হয়। আমার প্রথম নমণ স্বর্গীয় পিতৃদেবের সহিত ৬কাণীধাম দশন, সে আজ প্রার চল্লিশ বৎসর পূর্বের কথা, তথন বর্তমান সময়ের ন্যায় যাতায়াত এত সুগম ছিল না। পূর্ববঙ্গ রেলওয়ে লাইনের (1:. 1). ১. 1২.) শেব ষ্রেন ছিল তখন কুগ্টিয়া,-ওদিকে আবার ঢাকা হইতে ময়মনসিংহ পর্যান্তও রেলওয়ে হয় নাই, কাজেই এতটা পথ নৌকাযোগে আসিতে হত এখন যেমন ভারতের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্য্যন্ত গমনাঁগমন করিতে কোনওরূপ ক্লেশ সহ করিতে হয় না--তখন সেরূপ ছিলন! ;_ আমরা ময়মনসিংহ হইতে নৌকাযোগে ব্রহ্মপুল্র, যমুনা, পন্স, গৌরাই প্রভৃতি নদী বাহিয়া আসিয়! কুষ্টিয়া পনছিতাম। নৌকাযোগে যাতায়াত এখন একরূপ উঠিয়া গিয়াছে, এরূপ লমণে থে কতখানি স্ুথ-স্বাচ্ছন্দা-ভোগ এবং দশন-কুতুহল চরিতার্থ হয়, তাহা এখন আমরা বুঝিতে অক্ষম; কারণ তখন সময়ের মুল্য এতটা বুঝিতাম নাঁ_ এখন বেশ বুঝি, কাজেই কনব্যের তাড়নার সঙ্গে সঙ্গে সময়ও খুঁজিয়া পাই না! সে পূর্বের আমোদ-প্রমোদ মণের রীতিনীতিও তাই বহুল পরিমাণে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। প্রথমবার বৈগ্ঠনাথ ৬কাশাধাম দর্শন করি। বৈগ্যনাথের পাহাড়গুলির ধুম সৌন্দধা, বনভূমির শ্যাম মাধুযা এবং নিম্মলসলিল! জাহ্রবী-তটবর্তী ৬কাশীধামের নাগরিক শোভা-সম্পদের সুরমা-চিত্র আমার হদয়ে মুদ্রিত হইয়া গিয়াছিল, বয়ঃ প্রাপ্তির মঙ্গে সঙ্গে নানাপ্রকার বৈষয়িক কম্ম কঠোরতার মধোও আমার সে ভ্রমণ-স্পৃহা হাঁস হয় নাত; অবদর ক্রমে ধখন সুযোগ বুঝিয়াছি, তখনই ভ্রমণে বাহির হইয়াছি, _ এইরূপভাবে বহুবার ভারতের বিভিন্ন স্থান পধাটন করিয়াছি-__এ ভ্রমণ-কাহিনী সে পর্যটনের ফল। |

কোনদিন সাহিতাক্ষেত্রে অগ্রসর হই নাই--কিংবা কোন সামান্ত রচনায়ও হস্তক্ষেপ করি নাই, কাজেই বিরাট গ্রন্থ লইয়া আজ বড়ই সন্কুচিত চিত্তে সাহিত্য- ক্ষেত্রে অগ্রসর হইতেছি। আশা করি, সুধীবুন্দ আমার বৃষ্টতা মার্জনা করিবেন। আমার ভ্রমণ-কাহিনী কোনদিন গ্রন্থাকারে মুদ্রিত করিব এরূপ কল্পনাও আমার মনে আসে নাই, কারণ বঙ্গসাহিত্যেও আজকাল আর ভ্রমণ-কাহিনীর অভাব নাই! দশজনের নিকট গল্প করিয়াই আমি শান্তিলাভ করিতাম, কোথায় কোন্‌ বিপদে পড়িয়াছি--কেমন করিয়া সে বিপদ উত্তীর্ণ হইয়াছি--নানা দেশের নানা রীতিনীতি আচারবাবহার, প্রাকৃতিক দৃশ্ত নাগরিক সমৃদ্ধির আলোচনাই'

|০/০

আমার তৃপ্তির কারণ ছিল। গ্রন্থ-প্রকাশের কল্পনা একজন মহীয়সী মহিলার অনুরোধে আমার হৃদয়ে সর্ধপ্রথমে জাগরিত হয়। ময়মনসিংহ গৌরীপুরের প্রসিদ্ধ জমিদার শ্রীমান্‌ ব্রজেন্ত্রকিশোর রায় চৌধুরীর জননী, দানশীল! শ্রীযুক্তা বিশ্বেশ্বরী দেবীচৌধুরাণী আমাকে বহুবার বিষয়ে অনুরোধ করেন-তাহার সে অনুরোধ আমার নিকট অসঙ্গত বলিয়া মনেহয় নাই-_অতঃপর বন্ধুবান্ধব ধাহাঁদের নিকট কথা বলিয়াছি, তাহার সকলেই মন্তব্যের সারবস্তা অনুভব করিয়া আমাকে এবিষয়ে উৎসাহিত করেন, তাহাদের সে উৎসাহে উৎসাহিত হইয়াই অগ্য এই ভ্রমণ-কাহিনী প্রকাশে সমর্থ হইলাম

যে ভারতবর্ষ স্থদূর অতীত হইতে বর্তমান কাল পর্যন্ত নানাপ্রকার কৃত্রিম অকুত্রিম সৌন্দর্যো গঠিত, যাহার নাঁনাবিধ সৌন্দধ্যের বার্ভী জগতের বিভিন্নাংশের 'অধিবাসীবৃন্দের নিকট স্বর্গলোকের ন্যায় অপূর্বব বলিয়া পরীকীর্তিত হইয়া আসিতেছে-_ সেই দেশের অধিবামী হইয়াও আমরা তাহাকে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করিবার চেষ্টা যব হইতে বঞ্চিত! একটা কথা আছে "যাহা নাই ভারতে--তাহা নাই জগতে”, যিনি ভারতের বিভিন্নাংশ পর্যাটন করিয়াছেন তিনিই উক্তির সারবত্তা জদয়ে অনুভব করিবেন। এমন শ্তন্দর দেশ জগতে কোথায়? তুষার কিরীট-শোভিত হিমালয়ের বিরাট বিপুল সৌন্দর্য্য-_জাহুবী, কাবেরী, সিদ্ধ, গোদাবরী, যমুনা, ব্রহ্ষপূজ প্রড়তি নদনদীর বক্রগতি, রজত শুভ্রব_সলিল শোভা, দিগন্ত-বিস্কাত অরণানী, প্রাচীনের পরিতাক্ত এঁতিহাসিক তীর্থস্থলসমূহের কঙ্কাল চি, এক অবাক্ত মহিমায় ভাঁরতবর্ষকে জগতের নিকট বিধাতার ষ্টি-গৌরব-স্বদূপ নিরাজমান রাখিয়াছে। এত বিভিন্ন প্রকারের সৌন্দর্য, এত বিভিন্ন প্রকারের জল বায়ু, এত বিভিন্ন প্রকারের ভাষা, ধর্ম, জাতি, আচারব্যবহার, রাতিনীতি আশ্চধ্যরূপে এক ভারতবর্ষে বিছ্ামান। সেই ভারতের অধিবাসী হইয়াও 'আমর! ভারতকে দেখিতে জানি না, সুদূর ইউরোপ মামেরিকার অধিবাসীবৃন্দ ভারতকে যে ভাবে অধায়ন করিয়াছেন, আমরা তাহারি শ্নেহকোলে লালিত পালিত হইয়া তৎসন্বন্ধে একেবারে অন্ঞ। ভ্রমণ লোকের শিক্ষাকে মান্জিত উন্নত করে-_-উতার দ্বারা বভ অপঠিত ইতিহাস পঠিত হয়_- শ্ানক নৃতন শিক্ষা জ্ঞানের সঙ্গে অনেক বৃথা দন্ত, অহঙ্কার 9 সংকীর্ণতা জদয় হইতে দূর হয়-_লমণের শিক্ষা জদয়ে যেরূপ দুঢ়রূপে মুদ্রিত হইয়া যায়-_অন্ত কিছুতেই তদ্রপ হয় না, অতএব ভ্রমণ-স্পৃহা মানিবমাত্রেরই থাকা অবশ্য কর্তব্য কত প্রাচীন সমৃদ্ধিশালী রাঞ্জবংশ, কত প্রাচীন সমৃদ্ধ নগরের এখন অন্তিত্ব 'নাই_সে সকল প্রাচীন প্রত্ততত্ব ইতিহাস-সম্পর্কিত স্কানসমুহ দর্শনে যে অভিজ্ঞতা জ্ঞানলাভ হয়--তাহা গৃহকোণে বসিয়া থাকিলে কখনও আয়ত্ত হইতে পারে না,_-ভারতবর্ষবূপ বিরাট গ্রন্থথানা অধ্যয়ন করিবার সামান্যতঃ ইচ্ছ। থাঁকিলেও ভ্রমণরূপ ভ'মা-পরিচয়ের মধ্য দিয়াই তাহার আরস্ত হওয়া আবশ্যক

|৬/০

ভারতবর্ষ সম্বন্ধে পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণের যেরূপ সচিত্র সুন্দর স্থন্দর ভ্রমণ-গ্রন্থ আছে, আমাদের বাঙগলাভাষায় এখনও সেরূপ হয় নাই,--ইহার কারণ আমাদেরই অললতা এবং ভ্রমণের প্রতি অনাদর আমি আমার ভ্রমণ-গ্রস্থকে পর্যযাটক গণের চিত্তাকর্ষক করিবার জন্তঠ চিত্র ইত্যাদি দ্বার সুশোভিত করিবার প্রয়াস পাইয়াঁছি এবং যাহাতে সর্ধ শ্রেণীর পাঠকেরই চিত্তীকর্ষক হয় সেজন্য যথাসাধ্য সরল ভাষায় দ্রষ্টব্য স্থানসমুহ বর্ণন! করিবার চেষ্টা করিয়াছি-_জানি না কতদূর ক্ৃতকাধ্য হইয়াছি। আমার গ্রন্থ-প্রকাশের উদ্দেশ্য ছু'টি_-প্রথম যাহাতে সর্বসাধারণের মধ্যে ভ্রমণ-স্পুহা জাগরিত হয়, দ্বিতীয় যে সকল ধনীসস্তান, অর্থ, সময় স্থবিধা থাকিতেও বিলাসব্যসনে কালাতিপাত করেন, যদি তাহাদের মধ্যে একজনেরও, বুথা অর্থ বায় না করিয়া, দেশ ভ্রমণের হ্টার মহৎ সুন্দর কার্ষো অর্থব্যয়ের প্রবৃত্তি জন্মে, ছুটির একটা ও:£সামাগ্তরূপে চরিতার্থ হইলে আমি আমার সমুদয় অর্থব্যয় শ্রম সফল জ্ঞান করিব।

আমার ভ্রমণের যাহারা সঙ্গী ছিপণেন, তাহাদের মধো অনেকেই পরলোক গমন করিয়াছেন, তন্মধ্যে আমার বিশেষ বন্ধু স্বর্গীয় গগনচন্ত্র রায় মহাশয়ের স্বতি আজ আমাকে ব্যথিত করিতেছে--এ গ্রস্থ-প্রকাশে তাহার একান্ত আগ্রহ ছিল, আজ তাহাকে স্মরণ করিয়া আমি আন্তরিক মন্মবেদনা অস্ভব করতেছি। স্বর্গীয় গগন বাবু বাতীত আমার আজন্মের বন্ধু ভূতপৃর্ব গভর্মেন্ট পুলিস-ইন্স্পেক্টার শ্গক্ত ভারতচন্দ্র মন্্রমদার মহাশয় আমার সঙ্গী ছিলেন--গএগ্রন্থে তাহার একথানি চিত্র প্রদত্ত হহল। এইরূপ দীর্ঘ দেহ, বলিষ্ঠ কম্মঠ পুরুষ বর্তমান রোগজীর্ণ নিরন বাঙ্গালা দেশের অধিনানসিগণের মধ্যে অতি অন্নই দেখিতে পাওয়া যায়-_ চিত্র হইতেই পাঠকবর্গ বুদ্ধ বয়সেও তাহার ঘৌননোচিত বলবীধ্যের পরিচয় পাইবেন এগ্রন্থ প্রকাশে আমি “বিক্রমপুরের ইতিহা'স”- প্রণেতা সাহিত্য জগতে সুপরিচিত স্থলেখক শ্মান্‌ যোগেন্ত্রনাথ গুপ্তের নিকটও বহু পরিমাণে খণী, তাহার আন্তরিক সাহায্য উৎসাহ না পাইলে আমার স্ায় বিষয়-কন্মান্থুরত্ত ব্যক্তির পক্ষে এত বড় গ্রন্থ প্রকাশ করা সহজ হইত না। প্রসিদ্ধ মডার্ণ রিভিউ এবং প্রবাসী সম্পাদক শ্রীষুক্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এম, এ, মহোদয় ঘ্বারকা, প্রভাস এলিফেণ্টার কয়েকখানা ফোটোগ্রাফ প্রদান করিয়া বিশেষ উপকৃত করিয়াছেন। এই ভ্রমণ প্রবন্ধ সমূহের মধ্যে কয়েকটি স্তুপ্রসিন্ধ “সাহিত্য”, “এতিহাঁসিক চিত্র”, “ম্থপ্রভাত” এবং “জাহৃবীতে প্রকাশিত হইয়াছিল মদীয় আঁসাম-ভ্রমণ-কাহিনীও লিখিত হইয়াছিল এবং তাহার ছবিও প্রস্থত ছিল; কিন্তু গ্রন্থের কলেবর আশাতীত বৃহৎ হওয়ায় উহা" এগ্রম্থে সংযোজিত হইল না,__জনসাঁধারণের নিকট হইতে উৎসাহ পাইলে, মদীয় অন্তান্ত ভ্রমণ-কাহিনীর সহিত উহাঁও মুদ্রিত হইবে। সাহিত্যের স্রভি-কুস্ম- স্ুবাসিত মনোহর উদ্ভান মধ্যে আজ আমি নির্গন্ধ কিংগুক কুস্থম লইয়া উপস্থিত

॥5

হইয়াছি--যদি কেহ উহাকে কৃপাপূর্বক গ্রহণ করেন, তবে আমার আননের পরিসীমা থাকিবে না, যদি স্বণাভরে আবর্জনায় নিক্ষেপ করেন-_তাহা হইলেও আমার বিশেষ ক্ষোভের কারণ হইবে না-কারণ আমি নিজ অক্ষমতা ছুর্বলতা বেশ বুঝি।

কালীপুর ছোট তরফ, বিনীত নিবেদক-_ ১ল। বৈশাখ, ১৩১৭ সাল।

পোঁঃ, গৌরীপুর, ময়মনসিংহ | শ্রীধরণীকাস্ত লাহিড়া চৌধুরী |

স্থান।

সহ

কাশী

সারনাথ ... জৌনপুর . অযোধা ".

লাক্ষৌ বেরিলি

মুরাদাবাদ

রামপুর . হবিদ্বার

সাহারাণপুর

অন্বাল৷

পাতিয়াল। রাজধানী নাভা

জলন্ধর জালামুখী

অমুতসর... লাহোর .' রাবলপিপ্ডি

পেশোয়ার রিতার

কোয়েটা ..

দিললী

আজমীর...

চিতোর জয়পুর আগ্রা

স্ক্চ্দী

উত্রভারত।

ৃষ্ঠা।

১২৩ ২৪----৩৩ ৩৪-_-৩৮ ৩৯ _-8৪ ৪৫-_-৫৮ €৯ ৬০-্ট ৬২--৬৩ ৬৪-__-৭৩ ৭৪স্্ণ ৭৬----৭৮ ৭৯---৮১ ৮২--৮৩ ৮৪---৮৮ ৮৯-_-৯৫

৯৬--৮১৩৫

১০৬--১৯০৯

১১০-__-ই৩ ১২১--৩০ ১৩১--৩৩ ১৩৪---৬৮ ১৬৯-_-৭৪ ১৭৫---৮১

১৮৯- ৯৬

১৯৭--২২৫

স্থান। ফতেপুর সিক্রি ঢোলপুর .. গোয়ালিয়র ঝান্সী ভরতপুর.. ডিগ

মধুর! বৃন্দাবন ... _ গিরি-গোবদ্ধন গোকুল **:

কানপুর 22 এটোয়া

এলাহাবাদ কুরুক্ষেত্র". রুড় কা মীজ্জীপুর ". বিন্ধ্যাচল:.. . গয়া বুদ্ধগয়া গুড়িষ্যা

পুরী বা জগন্নাথ কনারক ... 'সাক্ষীগোপাল ভুবনেশ্বর বা একা ভ্রকানন খগণ্ডগিরি উদয়গিরি কটক যাজপুর ...

দাক্ষিণাত্য | ওরালটেরা'র

পৃষ্ঠা ২২৬---৪০ ২৪১---৪৩ ২৪৪-৮৫৩ ২৫৪--৫৮ ২৫৯---৬৫ ২৬৬--৬৮ ২৬৯--৮২ ২৮৩---৩০ ৩০৬---১ ৩১৫-১৯ ৩২০-_-২৭ ৩২৮---৩১ ৩৩২---৪৮ ৩৪৯---৫৭ ৩৫৮৫৯ ৩৬০-_-৬৭ ৩৬৮--৭১ ৩৭২৮৩ ৩৮১--7৮৬ ৩৮৭--৯৪ ৩৯৭---৪৪৪ ৪৪ ৫---৫৪ ৪৫৫---৬২ ৪৬৩-- ৮৩ ৪৮৪---৯৮ ৪৯৯---৫০২ ০৩---১৩ ৫১৩---৫২২ ৫২৩

॥2/০

স্থান। কোকনদ... গোদাবরী বেজাওদা মছলিপন্তন কালতস্তী -.. চন্দ্রগিরি ... ত্রিপতি . কাঞ্চা বা কাঞ্জীভবম্‌ চিক্ষলপং... মহাবলীপুর ভিলুপূর মায়াভবম চিদধবম ... কুষ্তকোনান কেডালোর পগ্চারী ইরোড জংশন ত্রিচিনাপল্লী তাঞ্জোর ... মাঢবা পাণ্ধম রামেশ্ববম রামনাদ ... টিউটিকোরিণ ব্রিনেত্লী আজিখাল আর্ণাকোলাম (কোঁচীন শ্রীরঙগম্‌... বিজয়নগর »কিিন্ধা... বিজাপুর ...

৮৮

৫২৩ ২৭ ৫+৮---২৯ ৫০০ ---৩)৬ 25০7০ 2 তি ৫৩৭---৩৮৮ ৫৩৯ ---৪৭ ৫৭৮--৫৪ ৫৫৫---৫৭

৫৫৮---৫৯

৫৭৪-_-৭৬ ৫৭৭----৭৮৮ ৫৭৯---৮২ ৫৮৩---৮৮ ৫৮৯ --১৭ ৫৯৮ -- ৯৯ ১০ ০.-_.-৩০৭ "৩৩ ৮-এএ ৬৩১০ ---১২ ২১. নি ৬১৯৫-77-১৩ ৬১৭---২০ '৩১১---২৯৫ ৩২৬--৯৯ *৩১)০ ১৩ ৬৪৭---৪৯

৬৫১--৬৪

স্থান। হাইদ্রীবাদ ইন্দোর ""' অবস্তী বা উজ্জয়িনী ভুঁপাল নাসিক ... অহমদনগর বোম্বাই ... এলিফেন্ট সুরাট ভরোচ কনীর বট বরদ! আহম্মদাবাদ জনাগড় ... দ্বাবকা করাচী ... জববলপুর

পৃষ্টা

৬৬৫---৭১ ৬৭২-- ৭৯ ৬৮০ ৯৩ ৬৯৪-_-৯৫ ৬৯৬. ৭০৫ ৭০৬---১৬ ৭১৭-_-৫৫ ৭৫৬ - ৬৫ ৭৬ ৩---৭১ ৭৭২... ৭৩ ৭৭6-..৭৮ ৭৭9. ৮৫ ৭৮৬--- ৯১ ৭২. ৯৩ ৯৯৯৮

৭9৮০০

৮০১- ৮০৭

স্থান।

অঅ অযোধ্যা অন্বাল! অমৃতসর অবস্তী অহমদনগর

আগ্রা 'আঙ্মমীর আপজখাল আার্ণাকোলাম 'আভম্মদাবাদ

জা

ইন্দোর

হরোড জংশন

এটোয়া এলাচাবাদ এলিফেন্ট ওয়ালটেয়ার কটক কনারক., কবীর বট করাচী কাশা কালহস্তী কাঁনপুর

বর্ণানুক্রমিক সূচী

৮৯ ৬৮০

৭০৩

৯৯৭

১৬৭

৬১৫

৭৮৮

৫১৩

স্থান কাঞ্চী বা কাল্লীভরাম্‌ কিক্িন্ধা কেডলোর কোফষেটা কোকনদ কুরুক্ষেত্র কৃম্তকোনাম্‌ কোচীন

খগগিরি উদয়গিরি

গয়] ঠিরিগোবদ্ধন গোয়ালিয়র গোঁকুল গৌদাবরী

চন্ত্রগিরি চিতোর চিদম্বরম চিঙ্গলপৎ টার

না জলন্দর জয়পুর জববলপুর জালামুণী নভনাগড় জৌনপুর

ঝান্দী

পৃষ্ঠা

৫৪8৮ ৬৪৭ ৫৭০ ১৩১

৫২৩৬

৫৬৭

৬২১

লিলি

রে রর পে

০৩৩

৮৯ ১৮২ ৮০১

৮৪ ৭১১৯

৩৪

৫৪

স্থান।

টিউটিকোরিণ

ডিগ ঢোলপুর

তাঞোর ত্রিপতি ত্রিচিনাল্লী তিনেবেলী

দূ দ্বারকা দিল্লী

ন্‌ নাসিক

প্চিচারী রা পাতিয়ালা রাজধানী নাভা পান্বম্‌

পেশোয়ার

পূরী বা জগন্নাথ...

বতেপুর সিক্রি .

বরদা বিজয়নগর বিজাপুর বিল্ধাচল বেজাওদা বেরিলি বোম্বাই বুন্দাবন বুদ্ধগয়!

১৬৩

১৪১

৫৮৩ ৫৩৯ ৫৭৯

৬১৩

৫৭৪

৭9০১ ৫৯৮ ১১৩

৩৯৭

৬৬

কে ৫১০ ০৯৩3 ঝি

তে এড

৫৭ ১৮৭

স্থান। ্‌ পৃষ্ঠা

কস

ভরতপুর রঃ রর 3 ১১০ ই৫নী ভিলুপুরম্‌ 2 কঃ ১,৫৬০ ভুবনেশ্বর বা একামকানণ 8 নি রি .....:8৬৩ ভরোচ রর টি ০৫৯ পল 1 মথুর। ঠা রি 2 ১০০ ২৬৭৯ মুরাদাবাদ টা হা /%3 | ২১২9০ মুূলতান রর বড রি 2৮ হি মীজ্জাপূর রা রর হা 9 ১৮৩৬৮ মছলীপত্তন ... রি রঃ রঃ ১... ৫৩০ মহাবলীপুরম্‌ ... যু ঞ্চ ... ৫৫৮ মায়াভরম্‌ টুর ১১,৫৬৩ মাছুর। হি বি ১০৮. 4৮৪ | যাজপুর মন 4 2 ১৫০০) বর

রামপুর টি রঃ ধা রন ৩২

রাবলপিটি নে [2 589

রুড় কী রা টুর নি .... 5৫৮

রামনাদ টা 2 টু দর 5527.

রামেশ্বরম্‌ ্ঃ রা পু ১,৬০৪ 2

লক্ষে রে পি 2 ১১১০ মি

লাচোর টা বা হয রি 2 8৩

শ্রীরগ্গম ... রি রর রঃ ১, ৬৯৩ লা.

স্ুরাট চর্ম তে টন 5 ৭2৩

সারনাথ টু ৪2 হু ৮22) ' উঠে

সাহারাণপুর ... 8 টু “মি

সামলকোট ... 4 রঃ 7 ১১৫২৩

সাক্ষীগোপাল ... রা | ১১8৫৫ হু

হরিদ্ধার রঃ রি রঃ

হাইজাবাদ দঃ রর রি রা ৬৬৫

ভিভ্র-স্ক্রুচী

চিত্রের নাম বিশ্বেশ্বরের মন্দির দশীশ্বমেধ ঘাট

সাড়ীর কারুকার্ধা রঃ ডে রি নু

দেবমন্দির-রামনগর

মানমন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রামনগরের দৃশ্য

বৌদ্ধস্তপ-সারনাথ

ধমক স্ত,পের কারুকাধ্য

সারনাথের সাধারণ দৃশ্য

ধাঁনী বুদ্ধ

হুমায়ুন স্তম্ভের খনিত অংশ ভিক্ষুগণের প্রাথনার ক্ষুদাকৃতি বেদী

সারনাথ 5৪ ৮৯ 5, ৪৫৯ লাল দরজ! মসজিদ **' 2 নী রর

লক্ষৌ

পূর্বদার-_কৈশরবাগ-লক্ষে

ইমামবাড়ী

তোঁসেঙ্গাবাদ বাজার তোরণ

রেসিডেন্সির ধ্বংসাব/শষ

মল--_অন্বাল৷

স্বর্ণমন্দির-অমৃতসর

রণজিৎসিংহের প্রাসাদ দুর্গ ওয়াজিদ্খায়ের সমাধিস্তস্তের উপর হইতে লাহোরের দৃ্ঠ সাম্রাজ্ৰী-নুরজাহাঁন | দুর্গ-রাবলপিগ্ডি

কোয়েটা

পৃষ্টাঙ্ক

মুখপণ্র

১৩ ১৪

১৬

চিত্রের নাম কোয়েটা ছর্গ দিল্লীর কাশ্মীর গেট জুন্মা মন্জিদ কুতব মিনার হুমায়নের সমাধি মান মন্দির অপর ভাগ আকৃবরের দরবার দিল্লীর লৌহস্তস্ত বাহাছুরসাহ ত্ান্নার পত্ভী আড়াইদিনক1 ঝুপড়ি__আজমীর বিজয়ন্তস্ত-_-চিতোর ' হাওয়ামহল মহারাজার কলেজ রাজপ্রাসাদ প্রাচীন অধর তাজমহল /তাজের তোরণ সাজাহান মমতাজ মহল তাজমহল দূর্গ দেওয়ানী খাম্‌ আকৃবর '9 যোধাবাই . আকৃবরের সোয়ারী বা নগর ভ্রমণ সম্রাট জাহাঙ্গীর যোধবাই ফতেপুর সিক্রির সাধারণ দৃশ্য সেলিমের সমাধি আকৃবরের তুরস্ক দেশবাঁসিনী সাজার বাসগৃ হস্তী-স্তস্ত প্রধান মস্জিদ '্টেপুক্ক পিক্রির তোরণথার

৯৫৬ ১৫৮ ১৬১

১৬৪

২১৩৬ ২১৪ ৯১৬ ২১৭৯ ২২৬ ২২৪

২২৬

2/৩

চিত্রের নাম | ৃষ্টাস্ক। গোয়ালিয়র দুর্ণ রর টু ১৪৯ ছুর্গ-ভরতপুর দন ২৬৪ দূর্গ-ডিগ্‌ ঠা টি ২৬৮ যমুনার অপর তীর হইতে মথুরার দুগ্ঠ রর -ং ২৬৯ . . ২৭০ বুন্দাবন-যমুনার অপর তীর হইতে: -. : রি ২৮৩ নাড়, গোপাল রা * 5) ২৮৪ শিশু কৃষ্ণ রর রি যি ২৮৬ প্রাচীন গোবিন্দজীব মন্দিরের ধবংনাঁবশৈষ তত রঃ ২৯০ বেহারী সাহার মন্দির 2 . ২৯৪ দেবী যোগমায়। রি | টি রী ৩৯২ শ্রীরাধাকষ্জের ঝুলন ৩০৮ মানসগঙ্গ'-গোবদীন 12. ৭. : : 2.০ গোকুল-যমুনীতীর :- | ৩১৫ দয টয়া | ৩১৬ মহাঁবন রি 2 নর রি ৩১৮ মেমোরিয়েল ওয়েল-কানপুব টা ৩২৩ থক্রর সমাধি- এলাহাবাদ . নর ৩১৬ অশোক স্তন্ত বা অশোঁফ লাট -. -** টা ৩ম৩ গঙ্গার খাল-রুড়কী র্‌ | **. ৪০৩ ৩৬৫৮ মস্জিদ (তোরণ-চুণাবগড় -. ১৮ ৩৩৩ গয়্ার সাধারণ দৃশ্তা ... / হা ৮6 ৩৮১ অক্ষয়বট-গয়া হর 2 ৩৮৪ বুদ্ধগঞ্জার মন্দির মেরামতের পৃব্বে ... রা রি ৩৮৮ বুদ্ধগয়ার মন্দির রর রন ৩৯০ জাপান সম্রাট কর্তৃক প্ররিত চন্দন টে বৃদ্ধ মতি রর ৩৯১ প্রধান রাজপথ-পুরী ... না রা 6০৪8 "শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের মন্দির ৪১৮ আঠার নালার সেতু ... ডি ১৪২ অরুণ স্তস্ত ্ঃ 8 দু ৪১৩ একটা প্রাচীন মন্দির-ভুবনেশ্বর টা রর ৪৬৪

তুবনেশ্বরের প্রধান মন্দির রর 47 ৪৭৪

চিত্রের নাম মুক্তেশ্বরের মন্দির মুক্তেশ্বরের মন্দিরের পার দৃশ্থা

তই প্রবেশ-দ্বার

জৈন মন্দির-খওডগিরি রাণী গল্ফা-খণ্ডগিরি রণনৃস্ত ...

তই শিকার-ৃশ্থ বরাহী দেবীর মূত্তি ভিজিগাপত্তন সীমাচলের মন্দির আরোহণের দানার গর্রিতজনক --দাক্ষিণাত্য দাক্ষিণাত্যের পল্লী-দৃশ্থ ফল বিক্রেক্রী__দাক্ষিণাত্য বেজাওদা খালের মুখ . কৃষ্ণ নদীর উপরিস্থিত পুল-বেজা ওদা তৃষিত পথিক-__দাক্ষিণাত্য পল্লীপথ-_দাক্ষিণাত্য চক্ষুনাইকি মাতা-_চিঙ্গলপৎ প্রাসাদ-সন্মুখ-চন্ত্রগিরি রাজ প্রাসাদ শেষাচলম্‌ মন্দিরের কারুকাধ্য বালাজির ত্রিপতি পাঁপনাশম্‌ তীর্থ--ত্রিপতি ভেম্কটরাম স্বামী_ কামাক্ষী দেবী-_কাঞ্ধী

বর ভোগমৃন্তি ... পার্বতী মুর্তি চিদস্বরম্‌

: মহামোক্ষম্‌ বা কস্ত মেলার সান দৃষত-ু্তকোনাম্‌ ...

সমুদ্রতীরবর্তী মঙ্দির__মহাবলীপুর পর্বতে খোদিত মূরত সমূহ

৪৭৬ ৪৭৭ ৪৭৯ ৪৮৬ ৪৯১ ৪৯৫

৪৯৩৬

৫১৬

৫২৮

৫৩০৩ ৫৩২

৫৩৪ £€৩৭ ৫৪৩ ৫৪০ ৫৪৩ ৫৪৫ ৫৪8৫ ৫৪৯

£৫৩

৫৫৫ ৫৫৬ ৫৫৮ ৫৬০

৫৬৩৩.

1/০ |

চিত্রের নাম গোবিন্দরাজ চক্রপাণী দেব-_কুস্তকোনাম সারঙ্গপাণী দেব সারঙ্গপাণী স্বামী দুটি ভাই বোন-_দ্াাক্ষিণাত্য পশ্ভীচারী গপুরাম সমুহের দৃষশ্ঠ-_মাছুরা রা নদীতীর হইতে ছুর্গের দৃশ্য _ত্রিচিনপল্ী ত্রিচিন পল্লী হুর্গ রাজপথ-_তাঞ্জোর নন্দী (বুষ) রাজ প্রাসাদ সাধারণ দৃশ্ঠ-_মাছুর! মন্দিরের প্রবেশ দ্বার--মাদুরা তেগ্লাকুলাম্‌্-__(পুষ্ধরিণী) আড়াহের রাজ প্রাসাদ মধ্যস্থিত একটা টির পান্ধাম রাজপথ -রামেশ্বরম্‌ কাবেরী নদীর স্সান দৃশ্য স্ব্রাহ্মণাচাধ্য স্বামী ফোর্ট দেন্টএঞ্জোলো-_কেনানোর বিমান মন্দির শ্রীরঙ্গম শ্রীরঙ্গমের বিগ্রহ রঙ্গনাথ স্বামীর অলঙ্কার সমূহ শ্রীরক্গজীর বিশ্বরূপ দর্শন শয়ন মু্তি : শ্রীমের শৈব মন্দিরের কৌরিনীে অঙ্কিত রর বর্তমান বিজয়নগরের সাধারণ দৃশ্য হস্তীশালা প্রাচীন রাজপথের একাংশ কৃষ্ণদেব রায়ের নির্দিত দেব মন্দির-__বিজয় নগর বিঠঠল স্বামীর মন্দির

পৃঠঠাস্ক |

৫৬৪ ৫৬৭ ৫৬৮ ৫৭১ ৫৭২. ৫৭৪ ৫৭৭ ৫৭৯ ৫৮৩ ৫৮২ ৫৮৪ ৫৮৬ ৫৮৯ ৫০১০

৫৯২

৫৯৪

1%৩

চিত্রের নাম উগ্র নরপিংহ ছুর্গ-তোরণ প্রস্তর নির্মিত রথ মন্দির তোরণ শ্রীরঙ্ষম এক প্রকার গোষান- দাক্ষিণাত্য একটা প্রাচীন সমাধি মন্দির-_বিজাপুর স্থলতান মহন্দদের সমাধি একটী প্রাচীন খিলানের দৃষ্ত চারমিনার-_হাইদ্রাবাদ রাজা মানায় সলবৎধার সমাধি ডিউক অফ ওয়েলিংটনট্রী ভিক্টোরিয়া টারমিনাস ... রাজপথ-বোন্ে রাজাবাই স্তত্ত আপেলো-বন্দর ক্রফোর্ড মার্কেট পাশি সমাধি স্তস্ত ব্যাক বে মুস্বা দেবীর মন্দির এলিফেপ্টার গুহা সম্মুখ

বর বহিদৃশ্ত বৃহত্বম কক্ষ

লিঙ্গ মৃত্তি ্রিমৃতি শিব-পার্বতী রঃ এলিফেণ্টা গুহার আভ্যন্তরীন দৃশ্য ধা বিষণ, প্রভৃতি মেবতাগণের ভগ্ন মুত্তি সমূহ “সিংহ গুল্ফা | এলিফেপ্টার বৃহতম গুহার পার দৃশ্য

পষ্ঠাঙ্ক | ৬৩৩৯ খ্এ 4৫

৬৪৪

৩৪৮

৬৫৯

৭8৬

৭৫০.

৭৫৫ ৭৫৬ ৭৫৭ ৭৫৮ ৭৫৭৯ ৭৬১ ৭৬২ ৭৬৪ ৭৬৭ ৭৬৮ ৭৭১

চিত্রের নাম ৃষ্ঠন্ক। লঙ্মী-বিলাস প্রাসাদ-বরদা রর 2 রন ৭৮০ ছাতী সিংহের মন্দির আহঙ্গদাবাদ ... র্‌ রি ৭৮৮ একটী মস্জিদের জানালার কারুকার্য্য ... রি রঃ ৭৯০ বারকার সাধারণ দৃশ্য ... রর রঃ ৭৯৩ দন্দিরের পথ রঃ রঃ রঃ 0 ৯৫ রণ ছোড়জীর মন্দিরের উর্দীংশ-_দ্বারকা রে ৭8৬ প্রাচীন মন্দিরাত্যন্তর--প্রভাস পত্তন রঃ র্‌ ৭৯৯ গ্রভাসপত্তনের ধ্বংসাবশেষ পু রা নত ৮০০ প্রাচীন প্রভাসের পার দৃশ্ঠ রী রর ৮০৩

মন্্বর শৈল-_নর্ধদী ... রে ৮*৪

টি

8038

রি 114 8511 1% & ৯১

শাভারতচন্দ মজুমদার

বুদ্তলীন প্রেস, কলিকাতা

হবাস্লী |

কক লিখল পাস কলি কত!

ভারত ভ্রমণ

শ্কান্পী |

ততবার কাশীধামে গমন করিয়াছি, তবু এই প্রাচীন তীর্থ আমার নিকট চিরনূতন। এমন মোক্ষদা়িনী পুণ্যময়ী নগরী ভারতবর্ষে অতি বিরল। বাংলার শ্যামল-প্রান্ত ছাড়িয়া বাম্পীয়শকট যখন সাঁওতাল পরগণার গিরিবন- রঞ্জিত নির্বরবিধোত প্রকৃতিস্ন্দরীর উচ্ছ্‌ঙ্খল সৌন্দধ্যরাজির মধ্য দিয়া চলিতে থাকে, তখন নবীন পথিকের নিকট এক নবীন সৌন্দর্যের দ্বার মুক্ত হয়। কাশী যাইবার পথে দর্শনযোগ্য স্থান আরও অনেক আছে, সে সকল বিষয় পাঠকগণের এত সুপরিচিত যে তাহাদের স্বন্ধে কোনও কথা লিখিতে গেলে, তাহা কাহারও তাদৃুশ প্রীতিপ্রদ হইবে না, অপরপক্ষে সময়ের উপরও অন্যায় দাবী করা হয়, সেজন্য সে সব বিষয়ে নিরস্ত হইলাম। মধুপুর, দেওঘর বা বৈদ্যনাধ, পাটনা, বাঁকিপুর ইত্যাদি সকলেরই চিরপরিচিত, অতএব বাক্যব্যয়ও নিপ্প্রয়োজন। বিহারের তালীবন-পরিশোভিত গ্রাম শ্যামল মাঠ পার হইয়া ঘতই অগ্রসর হওয়া যায়, ততই প্রকৃতিস্থন্দরীর “সুজলাং স্ুফলাং শশ্যশ্টামলাং মুক্তি অদৃশ্ঠ হয় এবং জননীর উগ্চণ্ড মুস্ত-_কোমলতার পরি- বর্থে কঠোর সৌন্দর্য্যের অবতারণা করিতে থাকে সারারাত্রি পাঞ্জাব মেইল ঝড়ের মত ছুটিয়! প্রত্যুষে আসিয়া দানাপুর বা খগোল ফৌঁসনে দীড়াইল-_ এখান হইতে দানাপুর সহর প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত। খগোল বেশ বড় ফ্েসন,-_এখানে বন রেলওয়ে কর্মচারী বাস করেন, ইহা একটা.

পথের কথা

ভারত-ভ্রমণ

দ্রেলওয়ে ডিশ্রীক্ট রেলওয়ের ইংরেজ ইউরেশীয়ান কর্মচারীদের পুষ্প- কাননবেষ্টিত স্বন্দর ছোট বাংলোগুলি ছবির মত দেখা যাইতেছিল। দানাপুর ছাড়িয়া ডাক-গাড়ী যখন বক্সার পঁু- ছিল, তখন বেল৷ প্রায় দশটা হইবে ।. বক্সার একটা ইতিহাস-প্রসিদ্ধ স্থান। এইস্থানেই বাংলার শেষ'নবাব প্রজার মঙ্গলাকাঙক্ষী মীরকাসিম আলিঙখার সহিত ইংরেজবণিক্গণের যুদ্ধ হইয়াছিল এবং তাহাতে তিনি পরাজিত হইয়াছিলেন। বক্সারে বিশ্বামিত্রের আশ্রম, দুর্গ, রামরেখা ঘাট, সের সাহার সমাধি প্রভৃতি দ্রষ্টবা-_এই সমাপি-হন্া নগর হইতে প্রায় চারি মাইল দুরে অবস্থিত

দেখিতে দেখিতে মাঠের পর মাঠ, গ্রামের পর গ্রাম, ফ্টেসনের পর ফ্টেসন পার হইয়৷ মোগল-সরাই এঁনুছিলাম। মোগল-সরাই একটা প্রধান ফ্টেসন,-_ইহা৷ আউড্-রোহিলখণ্ু-রেলওয়ের সংযোগস্থল ; আমাদিগকেও গাড়ী পরিবর্তন করিয়া উক্ত কোম্পানীর গাড়ীতে কাশী যাইতে হইবে। ছুইদিকে দিগন্ত-বিস্তত উষর মাঠ নীলিমার শেষপ্রান্তে মিলাইয়া গিয়াছে, গ্রামের কোনও চিহ্নই দৃষ্ট হয় না, আর মাঝখানে এই বিরাট ফ্টেসন আপনার গৌরব ঘোষণা করিতেছে ফ্েসনের একপার্থে একটা প্রকাণ্ড বটবৃক্ষ জটামাথায় দণগ্চায়মান, পথিকেরা সেখানে গাড়ীর প্রতীক্ষায় আরামে বিশ্রাম করিতেছে কত পোট্লা- পুট্লী_তাহার সংখা কে করে? ফ্টেসনের অপর দিকে গাড়ী প্রস্তুত ছিল, আমরা তাহাতে আরোহণ করিয়া কাশীর দিকে রওয়ানা হইলাম মোগল-সরাই হইতে কাশী কেবল নয় মাইল দরে অবস্থিত। মাঠের মধ্য দিয়া গাড়ী ছুটিয়া চলিল, দূরে বৃক্ষশ্রেণীর মধা দিয়া দুই একখানা গ্রাম দৃষ্টিপথে পতিত হইতেছিল। হূদয় আনন্দে পূর্ণ, সাধের বারাণসী দেখিব। কিছুদূর হইতেই সূধ্যের উজ্জ্বল কিরণমণ্ডিত অগ্ধচন্দ্রাকৃতি জাহ্ৃবী-সলিল-বিধৌত মনোহর বারাণসীধামের মোহন সৌন্দর্যা নয়ন-সমক্ষে বিকশিত হইল। কিন্তুন্দর: যেন একখানা স্ন্দর ছবি কেহ নীলিম- গগনপটে অঙ্কিত করিয়া রাখিয়াছে। দূরে উদ্চশীর্ষ বেশীমাধবের ধজা যেন যাত্রীবৃন্দকে আহবান করিতেছে--“এস পাপ-তাপ-প্রপীড়িত ব্যথিত ক্ষুন্ধ পান্থ !

বলার

_ মোগল-সরাই।

কানী।

এখানে এস।” কলনাদিনী হরজটাবিহারিণী সলিলরূপিণী তর্জনী 4ও৭ত। করুণা পুণ্যসলিল৷ ভাগীরথী যেন কল-কল্লোলে বলিতেছেন “আয়রে সবে, নরনারী, আয়, আমার স্িগ্ক-শীতল কোলে আয়, আমি তোদের অল স্পর্শে শীতল করিয়া দিব।” গঙ্গাবক্ষে সৌধকিরীটিনী কাশীর শ্বেত প্রতিবিন্ব পতিত হইয়৷ বড় স্থন্দর দেখাইতেছিল,_-চিক্মিক্‌ ঝিক্মিক__সে সৌন্দরয্য- ছবির অতলতলে কোনও প্রগাঢ় রহস্য চিরলুক্কায়িত আছে কিনা, তাহা কে বলিতে পারে? যিনি ভফ্রিনব্রিজের উপর হইতে কাশীর অনির্ববচনীয় শোভা অবলোকন করিয়াছেন, তিনিই ধন্য হইয়াছেন। পুলের অপর পারেই “কাশী” ফেসন। কাশীতে দুইটা ফেঁসন, একটা কাশীনামে আঙাহত ; অপরটিকে “বেনারস কেন্টনমেণ্ট” কহে। কেপ্টনমেণ্ট ফেঁসনটা খুব বড় ফ্টেসন, এখানে বি, এন, ডবলিউ রেন্তুওয়ে আসিয়! মিলিত হইয়াছে কাশী ফ্িসনে অবতরণ করিয়া আমরা এক্কাতে আরোহণ করিলাম। পশ্চিমাঞ্চলে এক্কাই সমধিক প্রচলিত। কাণ্ঠনিম্ম্িত একটা ছোট মঞ্চের উপর চারিকোণে চারিটি দণ্ড, দণ্ডের উপরে রৌন্্বৃষ্টি-নিবারণের নিমিত্ত একটা ক্ষুদ্র চাদোয়া খাটান, নিম্ে কাষ্ঠাসনেয় উপর একটা গদী, পশ্চাতে ছোট পর্দা ঝুলান; এহেন অদ্ভুতাকৃতি দ্বি-চক্র- যানকে একটী ঘোড়ায় টানিয়া লইয়া যায়। কাশীকে বাঙ্গালীর সহর বলিলে কোনও অত্যুক্তি হয় না, এত অধিক বাঙ্গালীর বাস পশ্চিমের আর কোনও সহরেই দেখিতে পাওয়৷ যায় না; যে দিকেই দৃষ্টিপাত কর, সে দিকেই বাঙ্গালী দেখিতে পাইবে, তোমার মনে হইবে না যে বাংল! দেশ হইতে অপর কোনও স্থানে উপনীত হইয়াছ। আমাদের গাড়ী ছুটিয়া চলিল, রাস্তার ছুইপার্থে দোকানশ্রেণী, দ্বিতল ত্রিতল অন্টালিকা, কোথাও পশ্চিমদেশীয়া ঝট রমণীগণ গম পিশিতেছে আর গান গাহিতেছে, কোথাও পানবিক্রেত্রী রূপলাবপ্যবতী যুবতী রমণী কাজল-অস্থিত চক্ষের নিপুণ কটাক্ষে কোনও যুবক পানক্রেতার মাথ! ঘুরাইয়া দিতেছে! মন্গিরে মন্দিরে ছত্রে ছত্রে কাশীধাম স্ুশোভিত। যথা সময়ে বাসায় পঁ্ছিয়। শ্রীস্তি দূর করিলাম। নিদ্রার অভাবে ব্লান্ত শরীর অত্যন্ত অবসাদগ্রস্ত বৌধ হইতেছিল, বিশ্রীমাদির পরে আহারাস্তে শষ্যায় ঢলিয়া পড়িবামাত্রস

কাশী।

ভাঁরত-ভ্রমণ

নয়নদ্বয় নিমীলিত হইল, নিদ্রার কোমল অঙ্কে সমুদয় গ্লানি অবসাদ ত্যাগ করিয়। যখন গাত্রোথান করিলাম--তখন অপরাহু হইয়াছে। ভারতবর্ষের মধ্যে কাশী প্রধান হিন্দুতীর্থ। প্রাচীনকালে এই নগর অত্যন্ত বৃহ ছিল, প্রত্যেক পৌরাণিক গ্রস্থ্েই ইহার মাহাত্ম্য বিশেষরূপে লিখিত আছে সংস্কৃত গ্রন্থাদিতে কাশীর অনেক নাম দেখিতে রাত পাওয়া যায় যথা ঃ__বারাণসী, বরাণসী, বরণসী, তীর্থরাজ্ঞী, তপস্থলী, কাশিকা, কাশী, অবিমুক্ত, আনন্দবন, আনন্দকানন, অপুনর্ভবভূমি, রুদ্রাবাস, মহাশ্মশান স্বর্গপুরী। সকল নামের মধ্যে কাশী, অবিমুক্ত এবং বারাণসীই সর্ববাপেক্ষা প্রাচীন। “মস্য-পুরাণে' কাশীর সীমা এইরূপ লিখিত আছে যে £-- “দ্বিযোজনন্তু তৎ ক্ষেত্রং পুর্ন-পশ্চিমতঃ স্মতম্‌ | অদ্ধ যোজনবিস্ডীর্ণ, তৎ ক্ষেত্রং দক্ষিণোত্তরম্‌ বরণা হি নদী যাবদ যাকচ্ছুক্ষনদী তু বৈ। ভীত্মচণ্ডিকমারভা পর্বতেম্মরমন্তিকে ॥” অর্থাৎ “পূর্বব পশ্চিমে ছুই যোজন এবং উত্তর দক্ষিণে অদ্ধ যোজন পধ্যন্ত ইহা বিস্তুত। এই পুণ্যতীর্থ বরণা নদী হইতে শুর্ষ নদী পধান্ত এবং ভীম্ম চণ্ডক হইতে আরম্ত করিয়া পর্ববতেশ্বরের নিকট পধ্যস্ত অবস্থিত ।” কাশীধামের পূর্বব পশ্চিম প্রান্ত দিয়া বরণা অসী নামক দুইটি ক্ষুদ্রকায়া জ্োতম্থিনী বারাণসী কহে কাশীর প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে যে কেবল পুরাণেই লিপিবদ্ধ রহিয়াছে তাহা নহে, পুরাণের কথা ধীহারা বিশ্বাস করিতে অনিচ্ছুক তীহারা জাবালোপনিষদে লিখিত কাশী-সম্পর্কিত বিবরণ পাঠ করিলে সন্দেহ ভগ্ন করিতে পারিবেন। সুপ্রসিদ্ধ চৈনিক পরিব্রাজক ফা-হিয়ানের ভ্রমণবৃস্তাস্ত পাঠে জানিতে পারা যায় যে, খৃষ্ঠীয় পঞ্চম শতাব্দীতে কাশীরাজ্য প্রায় ৩৩৩ ক্রোশ (৪০০০ লি) ইহার প্রধান নগরী বারাণসী দেড় ক্রোশ (১৮।১৯ লি) দীর্ঘ এবং অর্ধ “ক্রোশ (৫1৬ লি)বিস্তৃতছিল। . দিনরাত ব্যক্তির নিকট কাশী অপেক্ষা! পুণ্যপ্রদ পকিক্র তীর্থ

জগতের আর কোথাও নাই। এজন্যই প্রতি পুরাণগ্রন্থে খষিগণ প্রাণ, ভরিয়া কাশীমাহাত্ম কীর্তন করিয়া গিয়াছেন। কত ধন্মানুরাগী বৃদ্ধবৃদ্ধা প্রোট প্রৌঢ়াগণ যে “শেষের সে দিনের অপেক্ষায় এখানে বাস করিতেছেন তাহার ইয়ন্তা নাই; কারণ হিন্দুশাস্ত্রের মতে ষে বাক্তির স্থানে দেহত্যাগ হয়, সে ব্যক্তি সমুদয় পাপ হইতে বিমুক্ত হইয়! নির্বাণ লাভ করে। কাজেই শেষ বয়সে অধিকাংশ হিন্দু নরনারী স্থানে বাস করেন। এক সময়ে হিন্দুর এই পবিত্র তীর্ঘেও যে বৌদ্ধধর্মের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত ছিল, এখনও তাহার বনু চিহ্ন বিদ্কমান আছে। কাশীর নিকটবর্তী সারনাথে বনু বৌদ্ধকীর্তি ছিল; এখনও তাহার বহু ধ্বংসাবশেষ পড়িয়া আছে, আমরা সে বিষয় সারনাথ-প্রাবন্ধে আলোচনা করিলাম : 'ললিতবিস্তর নামক কৌদ্ধগ্রন্থ-পাঠে জ্ঞাত হওয়। যায় যে, বৌদ্ধদিগের প্রাধান্য সময়ে বারাণসীর নিকটে খধিপন্তনে মৃগাদব নামক স্থানে শাক্যসিংহ ধশ্মোপদেশ প্রদান করিয়াছিলেন। “বিষণ ব্রহ্মাগু-পুরাণের মতে কাশরুজ বা কাশ্য নামক আয়ুবংশের স্থহোত্রপুজই সর্বপ্রথমে স্থানের সিংহাসনে আরোহণ করেন, খুব সম্ভব যে এই নৃপতির নাম হইতেই হর 'কাশী' এই নাম হইয়াছে। বৌদ্ধধন্মের আধিপত্যের পর পুনরায় যে কোন্‌ সময়ে বারাণসীতে হিন্দুধন্মের প্রাধান্য

প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহা নির্ণয় কর! স্থকঠিন। পরিক্রাজক হিউএন্সিয়াং ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে যখন বারাণসীতে আগমন করেন, তখন তিনি এস্থানে হিন্দুধম্মেরই প্রাবল্য দর্শন করিয়াছিলেন, তখন এস্থানে শতাধিক দেব-মন্দির প্রায় দশসহজ দেব-উপাসক ছিল। শ্তরীক্ষেত্রের “মাদলাপঞ্ভীর' মতে জানিতে পারা যায় যে, রাজ। যযাতিকেশরী ৬কাশীধামের দেবমুন্দিরসমূহের অন্ুকরণেই ৩৯৬ শকে ভূবনেশ্বরে প্রধান শিব-মন্দির প্রস্তুত করাইয়াছিলেন। অতএব ইহার পুর্বব হইতেই যে কাশীধামে হিন্দুধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব বিরাজমান ছিল, তাহা অনুমান করা অসঙ্গত নহে কাশীতে বন্ৃতীর্ঘ বিরাজিত; কিন্ত বিশ্বেশ্বরই... এখানকার প্রধান বিগ্ুহ। ইনিই এপ্থানের সর্বপ্রধান লিঙ্গ। এই বশিবলিজের' তুল্য শিবলিজ আর কোথাও নাই। কাশীখণ্ডে লিখিত আছে মে “কলৌ বিশ্বেশ্বরো দেব; কল

বোদ্বকীততি।

বিশ্বেশ্বর |

ভারত-ভ্রমণ।

বারাণসী পুরী”, অর্থাৎ -কলিযুগে বারাণসী ক্ষেত্রই একমাত্র মোক্ষপ্রদ পুণ্যতীর্থ এবং বিশ্বেশ্বরদেবই একমাত্র দেবতা অতি প্রাটীনকাল হইতেই হিন্দ্রঝষিগণ বিশ্বেশ্বররূপী এই ভগবান্কে অচ্চনা করিয়া আসিতেছেন। “শিবপুরাণে" বিশ্বেশ্বরের মাহাত্ম্য-সম্বন্ধে লিখিত আছে যে

“পঞ্চক্রোশ্যাঃ পরং নান্যাৎ ক্ষেত্রঞ্চ ভূবনত্রয়ে

অথবা পাপিনাং পাপস্ফোটনায় স্বয়ং হর?

মত্ত্যলোকে শুভং ক্ষেত্রং সমাস্থায় স্থিতঃ সদা

যথা তথাপি ধন্লেয়ং পঞ্চক্রোশী মুনীশ্বরাঃ

ষত্র বিশ্বেশ্রো দেবো হযাগত্য সংস্থিতঃ সয়ম্‌।

যদিদনং হি সমারভ্য হরঃ কাশ্যামুপাগতঃ |

তদ্দিনং হি সমারভ্য কাশী শ্রেষ্ঠতরা হাত ॥”

( শিবপুরাণ, জ্ঞানসংহিতা, ৪৯ অঃ) অর্থাৎ “হে খবিবন্দ ! ব্রিলোকের মধ্যে পঞ্চক্রোশবেচিত এই স্থানের ন্যায় পবিভ্রতম পুণ্যস্থান আর কোথাও নাই, নিজে পরমকারুণিক দেবাদিদেব মহাদেব পাপিগণের পাপ বিনাশ করিবার জন্য এই সুন্দর পুণ্যপ্রদ স্থান নিন্নাণ করিয়া বাস করিতেছেন। যে দিবস হইতে মহাদেব এই পুণ্য তীর্থে আগমন করিয়াছেন, সেই সময় হইতেই বারাণসী শ্রেষ্ঠতম হইয়াছে ।”

_. কাশীর প্রাচীনত্ব এই বিশ্বেশ্বরলিঙ্গ হইতেও বিশদরূপে বুঝিতে পারা যায়। প্রায় সাড়ে বারোশত বসর পূর্বে চৈনিক পরিক্রাঙ্ক হিউএন্সিয়াং যখন এস্বান দর্শন করিতে আইসেন, তখন তিনি এস্থানে শতহস্ত উচ্চ তাত্মণ্ডিত বিশবেশ্বরের লিঙ্গ দর্শন করিয়াছিলেন ; কিন্তু এখন তাহার কোনও বূপ বিবরণই পাওয়া যায় না। কোনও পুরাতন গ্রস্থাদিতেও এইরূপ কোন বর্ণনা লিখিত নাই কেহ কেহ অনুমান করেন যে, ১১৯৪ সালে কাশী-নরপতি রাঠোর জয়টাদ যখন সাহেবউদ্দীন ঘোরীর সেনাপতি কুতবউদ্দীন কর্তৃক পরাভূত নিহত হন, বোধ হয় সে সময়ে মুসলমানগণ কর্তৃক সেই পবিত্র লিঙ্গ বিধ্বস্ত হইয়াছে কথিত আছে যে, মুসলমানেরা কাশীর প্রায় ১০০০ এক হাজার দেবমন্দির ভগ্ন করিয়া মস্জিদ নির্মাণ

কাশা

বিশ্দে্দরের মন্দির__

কুম্তলীন শব্পেস, কলিকাতা

কাশী। দেব-মন্দির বিরাজিত নাই। বর্তমান স্ুবরকলস ্বপচড়া-বিলম্থিত

বিশ্বেশ্বরের স্থন্দর মন্দির মাত্র শতীধিক বর্ষ পূর্বে. নির্শিত.. হইয়া এখন বিশ্বেশ্বরের মন্দিরের অনতিদূরে ওরজজেব কর্তৃক নিশ্মিত যে মস্জিদ দৃষ্ট হয়, পূর্ধের সেই স্থানেই বিশ্বেশ্বরের মন্দির বিষ্মান ছিল। সেই মস্জিদের পশ্চিমভাগের কারুকার্ধ্যাদি দর্শন করিলে স্পষ্টই প্রতীয়মান হইবে, এককালে ইহা হিন্দু দেব-মন্দির ছিল। বর্তমান বিশ্বেশ্বরের মন্দির সমচতুক্ষোণ প্রাঙ্গণের মধ্যে অবস্থিত। মিরঘাট জরাসন্ধঘাটের অদুরেই এই মন্দির। কোন্‌ মহাত্যা দেবাদিদেব বিশ্বশ্বরের সুন্দর কারুকার্য্যসম্পন্ন এই মন্দির নিম্মাণ করিয়াছিলেন, তাহা নির্ণয় কর! স্থকঠিন। চুড়াসমেত ইহ! ৫১ ফুট উচ্চ। মহারাজা রণজিতসিংহ মন্দিরের খিলান, চুড়া কলস ইত্যাদি তামার উপর স্বর্ণদ্বারা মণ্ডিত করিয়৷ দিয়াছেন। দীপ্ত সূধ্যালোকে কাঞ্চনমণ্ডিত মন্দিরচুড়া পথিকের চক্ষু বল্সাইয়া দেয়। চড়ার উপরে ত্রিশূল তাহার পাশে সর্বদাই পতাকা উড্ভীয়মান। মন্দিরের খিলানের মধাস্থলে ৯টী বৃহণ্ড ঘণ্টা টাঙ্গান আছে ইহার মধ্যের সর্বেবাৎকুষ্ট সর্নববৃহত্টা নেপালের মহারাজ! প্রদান. করিয়াছেন। যিনি এই মন্দিরে প্রবেশ করিয়াছেন, তিনিই ধন্য হইয়াছেন। ধর্মের নিশ্মল পবিত্রতা এখানে বিরাজমান কি সুন্দর দৃশ্য, ভক্তির সুমধুর -প্রীতির ভাব এখানে দেখিতে পাওয়া যায়। ভারতবর্ষের বিভিন্ন বিভিন্ন স্থানের কতশত হিন্দুভক্তগণ বম্‌ বম্‌ রবে চতুদ্দিক প্রতিধ্বনিত করিতে করিতে তক্তিভাবে বিশ্বেশ্রের লিঙ্গ দর্শন করিতেছেন। সকলের মুখেই দেব-দর্শন- জনিত অপুর্বব প্রীতির ভাব ফুটিয়। উঠিয়াছে। কেহ করযৌড়ে সঙ্গলনয়নে ভক্তিবিকম্পিত ক্টে স্তবপাঠে নিরত, কেহ মনের আনন্দে স্তমধুর স্বরলহরীতে চারিদিকে স্থুরের ঝঙ্কার তুলিয়া দিয়া বেদপাঠ করিতেছেন। ভক্ত হিন্দুর এমন অপুর্ব মিলন অতি অল্পস্থানেই দৃষ্ট হয়। সন্ধ্যার সময় দেবাদিদেবের আরতি-দৃশ্যের বর্ণনা ভাষায় ব্যক্ত করা অসম্ভব সুমধুর _বেদধবনিতে বাগ্যরবে অপূর্বব পুলক সমাবেশ, আর শত শত নরনারী ভক্তিগদগদচিত্তে একদৃষ্টে সেই মহান্‌ দেবতার দিকে নিনিমেষ নয়নে চাহিয়৷ রহিয়াছেন। ধর্্মপ্রীণ ভারতে ধন্মলাভের জন্য সর্বসাধারণের

ভারত-জরমণ

মধো যে কতদূর ব্যাগ্রতা, তাহ! ধিনি কখনও কোনও তীর্থস্থানে যান নাই তাহার পক্ষে কল্পনা করা অসম্ভব। বিশেশ্বরের মন্দিরের নিকটেই

জ্ঞান-বাপী। “কাশীখণ্ড পাঠে জ্ঞাত হওয়া যায় যে, রুদ্ররূগী

ঈশান ত্রিশূল দ্বারা এস্থানের ভূমি খনন করতঃ এই কুপ্ত নিশ্মাণ করিয়াছিলেন। ইহার জল পান করিলে মুরববাক্তিও জ্ঞানলাভ করিয়া থাকে জনপ্রবাদ এইরূপ যে, যখন কালাপাহাড় কাশীর দেব-মন্দির- সমূহ ধ্বংস করেন, তখন বিশ্বেশ্বর ইহার মধ্য লুকায়িত ছিলেন এখনও বন্ুযাত্রী এস্থানে দেবাদিদেবের পুজা করিয়া থাকে। জ্ঞান-বাপী একটা কূপ বিশেষ ; ইহার উপরে একটা ছাদ আছে, উহা ৪০টা প্রস্তর নির্মিত থামের উপরে সংস্থাপিত। গোয়ালিয়র-রাজ দৌলতরায় সিন্ধিয়ার বিধবা পত্তী বৈজবাই কর্তৃক ১৮২৮ খৃষ্টাব্দে ইহা নিশ্মিত হয় ; এই চাদের গঠন- নৈপুণ্য অত্যন্ত মনোহর | জ্ঞান-বাপীর জল অত্যন্ত ছু্গন্ধময়। বিশ্বেশ্বরের লিঙ্গটা, বানলিজও মধামারৃতি, তিনি সর্দদদাই ভক্তরন্দ কর্তৃক প্রদন্ত স্ূপীরুত ফুলবেলপাতায় এতদুর আবৃত থাকেন যে, সকল সময়ে াহাকে দেখিতেও পাওয়া যায় না। রাহার মনিদরসন্পিকন্থ অল্নপূর্ণার মন্দিরে দেখিলাম দেবী অন্নপূর্ণা দর্িবিহস্তে দাড়াইয়া রহিয়াছেন। দেখিতে বড়ই সুন্দর ! জানিনা কবে মা অন্নপুর্ণ। ক্ষুধার্ত তারতবাসীর ক্ষুধা দুর করিতে অগ্রসর হইবেন। কাশীতে এইরূপ প্রবাদ আছে যে, এখানে কেহই অনাহারী থাকে না। নানারত্বিডুষণা করুণাময়ী জগন্মাতার কুপায় দীনদুঃখী কাহাকেও অনাহারে ক্রেশ পাইতে হয় না। এই মন্দির প্রায় ১৮০ বৎসর পূর্বে পুণার মহারাষ্রনৃপতি কর্তৃক নির্মিত হইয়াছে মন্দিরের একপার্খে সপ্তাশ্মযোজিত রথের উপরে সূর্য্যদেবের মু্ি বিরাজমান এতদ্বযতীত শনৈশ্চরেশ্বর, শুক্রেশখর, গৌরীশঙ্কর, গণেশ হনুমানের বিগ্রহাদিও দৃষ্ট হয়। শনৈশ্চর লিজগের উদ্ধদেশ রজতমণ্ডিত এবং নিম্নাংশ পুষ্পগুচ্ছ দ্বার আরৃত। বিশেশরের প্রাচীন মন্দির নষ্ট করিয়া যে স্থানে ওরলজেব মস্জিদ নিশ্াণ করেন, তাহাকে এখনো গুরজজেবের মস্জিদ কহে। মদ্জিদের সম্মুখতাগে মুসলমানগণ একটা সিংহদার প্রস্তুত করাইয়াছিলেন ;

জ্ঞান-বাগী।

অন্নপূর্ণার মন্দির

কাশী-কর্কট

কিন্তু কোন মুসলমানই সৈই তৌরণ-দ্বার দিয়া মস্জিদে প্রবেশ করিতে পারে না; ইংরেজ গবর্ণমেন্ট এখন এই মস্জিদের ট্ঠি নিয়োজিত আছেন। এই মস্জিদের নিকটে আদিবিশ্বেশরের প্রায় ৪০ হস্ত উচ্চ মন্দির দৃষ্টিপথে পতিত হয়; উহার সন্নিকটেই “কাশী-কর্্ঘট' নামক একটা পবিত্র কৃপ দেখিতে পাওয়া যায়। সর্বসাধারণের মধ্যে এইরূপ একটী বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, ডুব দিয়! এই কর্বনট উত্তীর্ণ হইতে পারিলে আর পুনর্ববার জন্মগ্রহণ করিতে হয় না, এই অন্গ-বিশ্বাসের গতিকে ছুই একজন ডুব দিয়া মরার পর, গবর্ণমেপ্ট এই কৃপের মুখ বন্ধ করিয়! দেন, পরে পাগাগণের বহু আবেদনে প্রতি দোমবার কেবল একবার করিয়া ইহার মুখ খুলিয়৷ দেওয়৷ হয়। আমরা বিশেশখরের মন্দির তন্নিকটবন্তী অন্যান্য দেবালয়াদি দর্শন করিয়া কালতৈরবের মন্দিরের দিকে অগ্রসর হইলাম। উহা বিশেশ্বারের মন্দির হইতে কিয়দ্দরে অবস্থিত। কথিত আাছে ফে, ব্রহ্মার গৌরধ হ্বাস করিবার নিমিত্ত মহাদেব নিজ কোপ হইতে এক ভৈরব পুরুষের স্যা্ঠি করেন, তিনিই কালভৈরব। কালভৈরব বা ভৈরবনাথের মুস্তি প্রস্তরে গঠিত ঘোর নীলবর্ণ, ইহার চক্ষু দুইটা রজত নিশ্মিত, তিনি স্বর্ণ-সিংহাসনে অধিষ্ঠিত আছেন, পার্থ তাহার সারমেয়ের বিকট ন্তি। কালভৈরব কাণীর প্রহরীরূপে বিরাজিত আছেন। ভৈরবনাথের মন্দিরটা নানাবর্ণে সমলগ্কত এবং দর্শনোপযোগী। প্রবেশ করিবার দ্বারের বামপাশে দশাবতারের মুর্তি অতিশয় স্থুন্দর রূপে চিত্রিত আছে। কাল- রবের বর্তমান মন্দির পুনার বাজিরাও নির্মাণ করিয়া দিয়াছেন। মন্দিরের বাহিরে কালভৈরবের প্রাচীন মুর্তি দেখিতে পাওয়া যায়। অগ্র- হায়ণ মাসের কৃষণ্টমীতে উপবাস করিয়া যে ব্যক্তি সারারাত্রি কালতৈরবের (নিকট জাগরিত থাকে, তাহার সর্দপ্রকার পাপ দূরীভূত হয়। ইহার করিয়া যিনি যে কামনা করিয়া থাকেন তাহাই সিদ্ধ হয়। কাশীতে যে : চারিটা শীতল! দেবীর মন্দির আছে, তন্মধ্যে এখানে একটা দেখিতে গুল, এই শীতলাদেবীর মন্দিরে সপ্তভগিনীর মস্তি আছে। নব- হের মন্দিরও কালটৈরবের মন্দিরের নিকট বিদ্ুমান। এখানে রবি,

কালভৈরব।

ভারত-জমণ |

সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু কেতু এই নবগ্রহের রীতিমত পুজা! হইয়া থাকে নবগ্রহের মন্দিরের পার্শেই দগ্চপাণির মন্দির। “কা শীখণ্ডে লিখিত আছে যে “হরিকেশ নামক জনৈক যক্ষ তপশ্যা দ্বারা মহাদেবের অন্পকম্পা লাভ করে। মহাদেব তাহাকে-বর দেন যে তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়তম ভক্ত, তুমি কাশীধামের ছুষ্টগণের শাসক ক্লিষ্টের পালক হইয়া দগ্ডপাণি নামে অবস্থিতি কর, কাশীধামে তোমার পুজা না করিলে কাহারও স্থখলাভ হইবে না।” দণ্ড- পাণির মুক্তি প্রস্তর নিণ্রিত, উহা উচ্ছে প্রায় তিন হস্ত হইবে, যাত্রিগণ প্রতি রবি মর্শলবারে ইহার পুজা করিয়া” থাকে কালটতৈরবের মন্দিরের নিকটে কালকুপ অবস্থিত। যিনি এই তীর্থে ভক্তিসহকারে

কালকুপ। আবগাহন করেন, তাহার পিতিলোকের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার হয় এই কুপটা এমনি স্থুকৌশলে নির্িত যে ঠিক্‌ দিবা দ্বিপ্রহরের সময় সৃষ্যের রশ্মি ইহার সলিল মধ্যে পতিত হয়, বু লোক অদৃষ্ট পরীক্ষার্থ সে সময়ে এখানে আগমন করে, মধ্যাহ্ন সময়ে যে ব্যক্তি কৃপ-জ্লে আপনার প্রতি- বিন্ব দেখিতে পায় না, ছয় মাসের মধোই সে নিশ্চয়ই মৃত্যুমুখে পতিত হইবে, সাধারণের মধ্যে এইরূপ একটা বিশ্াস দুটরূপে প্রচলিত দেখিলাম কালকূপের অল্পদুরে বিদ্ধকালেশ্বরের' মন্দির অবস্থিত দক্ষিণদেশস্ম নন্দি- বদ্ধন গ্রামের বুদ্ধকাল নামক জানৈক রাক্তা কর্তক এই শিবলিজ স্থাপিত উহার মন্দির নিম্মিত হইয়াছিল এই মহাদেবের অর্চনা করিলে সর্বপ্রকার পাপঞজনিত দরিদ্রতা দূর হয়। বৃদ্ধকালেশরের মন্দিরের প্রাচীনত্ব অনেকেই সকার করেন। কোন কোন পুরাতন্তবিদের মতে কাশীতে এখন যতগুলি শিবমন্দির আছে, তম্মধ্যে বৃদ্ধকালেশ্বরের মন্দিরই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শিব-পুরাণে” বুদ্ধকালেশ্বরের নাম দেখিতে পাওয়া যায়, অতএব উহার প্রাচীনত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ করিবার কোনও কারণ নাই | পুর্সেন যে স্থানে বিখাত এবং মোক্ষপ্রদ “কুত্তিবাসে- শরের' মন্দির অবস্থিত ছিল, এখন সে স্থানে আলমগীর মস্জিদ অবস্থিত ১৬৫৯ শ্রীষ্টান্দে কৃন্তিবাসেশ্বরের মন্দির ধ্বংস করিয়! সেই মাল মসলা দ্বারা ওরজজেব এই মস্জিদ্‌ নির্াণ করিয়াছিলেন। এখন এই মস্জিদের নিকট

দগ্ডপাণির মন্দির |

| বদ্ধকালেশর

৯৩

কাই,

“ত্রেশবরের' মন্দির বিরাজিত। এইরূপ একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে যে কয়েক বগসর পুর্বে এই মন্দিরের ভিন্তি খনন করিবার সমর মৃত্তিক | গর্ভ হইতে বহু ধন, রত্ব পাওয়। গিয়াছিল। “কাশী খণ্ডে? এই শিবের মাহাত্ম্য সম্বন্ধে লিখিত আছে যে, “যে ব্যক্তি রত্তেশ্বর দেবকে প্রণাম করিয়া দূরদেশেও প্রাণত্যাগ করে, সে তি শতকোটি কল্প কাল পধ্যন্ত স্বর্গে বাস করিয়া থাকে ।. £৮

কাশীতে গঙ্গার তীরে যে কত ঘাট আছে তাহার। ইয়নত! নাই। নি

যে ঘাটে যাইবে, তখনি সে স্থান জনাকীর্ণ দেখিতে পাইবে কোথাও সন্ন্যাসিগণের গগনভেদী হর্‌ হর্‌, রব, কোথাও সামবেদের মধুর স্বর-লহরী

গগনে মিলাইয়া যাইতেছে, কোথাও সংসারত্যাগী ধ্যানমগ্ন যোগীপুরুষগণ যোগাসনে উপবিষ্ট, আবার কোথাও বা বর্ষীয়সী রমণীগণ পুজা নিরতা পরমার্থ লাভের জন্য মানুষের ব্যাকুলতার দৃশ্য এখানে যেরূপ দৃষ্ট হয় পৃথিবার অন্যত্র তাহ। কল্পনাতীত। বাস্তবিক কাশীর গঙ্গাবক্ষস্থ দৃশ্য অতুলনীয় আমরা এখানে প্রধান প্রধান কতকগুলি ঘাটের নামোল্লেখ করিলাম যথা --অসিঘাট, লালামিশ্রঘাট, রাওসাহেবঘাট, আকরুলঘাট, শিবালয়ঘাট, দণ্ডীঘাট, হনুমানঘাট, মশানঘাট, লালীঘাট, কেদারঘাট, চৌকীঘাট, রাজাঘাট, নারদঘাট, সোমেশ্বরঘাট, পীড়েঘাট, নন্দঘাট, ছত্রঘাট, বাঙগালীটোলাঘাট, গুরুপান্তঘাট, চৌষট্রিঘাট, রাণাঘাট, মুন্সীঘাট, অহল্যাবাই- ঘাট, শীতলাঘাট, দশাশ্বমেধঘাট, প্রয়াগঘাট, মানমন্দিরঘাট, ঘোড়াঘাট, ভৈরবঘাট, মীরঘাট, ললিতাঘাট, নেপালঘাট, জরাসন্ধঘাট, কায়স্থঘাঁট, মণিকর্ণিকাঘাট, সিঙ্ষিয়াঘাট, ভীমকাঘাট, গণেশঘাট, ঘোসলাঘাট, রামঘাট, পঞ্চগঙ্গাঘাট, ছুর্গাঘাট, বিন্দুমাধবঘাট, গোঘাট, ত্রিলোচনঘাট, মৈত্রঘাট, প্রহলাদঘাট, রাজঘাট, বরুণাসজমঘাট, পিশাচমোচনঘাট অশ্মীশ্বরঘাট সমুদয় ঘাটের মধ্যে আবার শীতলাঘাট, প্রয়াগঘাট, বরুণাঘাট, দশাশ্খমেধ ঘাট, চৌফাট্ুষোগিনী, দশাশ্বমেধ মণিকর্ণিকা, অশ্রীশ্বর, অসিসঙ্গম কেদারখাট প্রভৃতি প্রধান। মণিকর্ণিকা ঘাটের ন্যায় পবিভ্রতম তীর্থ কাশীর আর কোণাও নাই। ইনার রজার পরার হাযান পচিতা। বিশেষরূপে লিখিত আছে “সৌরপুরাণে আছে যে £__

রত্বেখবর।

১১

ভারত-ভমণ | /

“নাস্তি গঙ্গাসমংতীর্থং বারাণশ্ঠাং বিশেষতঃ |

তত্রাপি মণিকর্ণাখ্যং তীর্থং বিশ্বেশ্বরপ্রিয়ম্‌ অর্থাৎ বারাণসীধামে গঙ্জারমত কোনও তীর্থ নাই, আবার বিশ্বেশ্বরের প্রিয় মণিকর্নিকা তীর্থের তুল্যও কোন তীর্থ নাই কথিত আছে যে প্রাচীনকালে স্থান ঘোরতর অরণ্যানীসঙ্কুল ছিল, সে সময়ে বিষুঃ মহাদেবের আরাধনায় নিযুক্ত থাকিয়া আপনার কুম্তল হইতে একটা মণি হারাইয়৷ ফেলিয়াছিলেন _ সে নিমিত্ত ইহার নাম মণিকর্ণিকাঘাট হইয়াছে, বিষয়ে আরও নানা- প্রকার কিন্বদন্তী শুনিতে পাওয়া যায়, - সে সকলের আলোচন! নিষ্প্রয়োজন। এখানেই ঘাটের পার্শে--

শ্মশানং ঘোর সন্নাদং শিবাশতসমাকুলং

শবমৌলি সমাকীর্ণং দুর্গন্ধং বহুধমকং ॥” কাশীর মহাশ্মশান। এমন সময় নাই, যে সময়ে এখানে একটা না একটা চিতা না ভুলে! হায় মোহান্ধ মানব, এই তোমার শেষ পরিণাম ' স্ৃখ- পুষ্ট দেহের এই শেষ যজ্ঞ ' সাধের লীলাখেলার শেষ যবনিকা এখানেই পতিত হয় ' অই যে শবদেহ ভস্মীভূত হইতেছে -অই যে তাহার আত্মীয়বর্গ সজল নয়নে চাহিয়া রহিয়াছে- একদিন সে আমাদেরি মত ছিল, আমাদেরি মত হাসিয়া খেলিয়া বেড়াইয়াচে--আজ তাহার শেষ চিহ্ন চিরদিনের মত পৃথিবীর বুক হইতে অদৃশ্য হইতেছে হায়' শ্মশান_সাম্যের ঘোষণা জগতে ঘদি কেহ করিয়া থাকে সে তুমি--যদি দীন দরিদ্র হইতে সআটের মণি-রত্ব-মণ্ডিত মুকুটের প্রতিও দৃক্পাত না করিয়া বিজয় ঘোষণা কেহ করিয়া থাকে সে তুমি সত্য সত্যই ত্রমি শিব-নুন্দর। শ্মশানের পার্শে দাড়াইয়া কত কথা ভাবিলাম, মুৃত্তের জন্য আত্মহারা হইতে হইয়াছিল। মণিকর্ণিকার সম্মুখই তারকেশ্র দেবের মন্দির অবস্থিত। কথিত আছে যে এই তারকেশ্বর দেব অন্তিম সময়ে কাশীবাসী নরনারীগণকে তারকক্রক্ধ জ্ঞান প্রদান করিয়। থাকেন। এস্বানে এই পবিত্র তীর্থের পৃত সলিল স্পর্শ নস! হইয়া থাকে। এই ঘাটের উপরে বিষুঃর চরণপাছুকা দু হয়। কিন্বদন্তী এইরূপ যে ভগবান্‌ বিষুট যখন মহাদেবের আরাধনা করেন

১২

২:০০ রকি ০৪

কাশী।

সেঁ সময়ের তাহার পদদ্ধয়ের চিহ্ন এস্থানে অঙ্কিত রহিয়াছে একখানি মন্রর প্রস্তরের উপর ছুইখানি প্রীয় ১॥০ হস্ত পরিমিত পদতলের চিহ্ন দেখিতে পাওয়া ষায়। যাত্রিগণ কার্তিক মাসে নানা স্থান হইতে এই চরণ-চিহ্ন পুজা করিবার জন্য আগমন করিয়া থাকেন। বরণাসজগমের সম্মুখেও এইরূপ পদ-চিহ্ন আছে মণিকর্ণিকার ঘাটের কিছু দূরে সিদ্ধি- বিনায়ক, সিদ্ধি এবং বুদ্ধিদেবীর মন্দির দৃষ্ট হয়। কাশীর উত্তর পশ্চিম দিকে নাগকুঁয় মহল্লা নামক মহল্লা আছে__ এই স্থানকেই প্রত্বতক্র-বিদেরা বারাণসীর অতি প্রাচীন স্থান বলিয়া বর্ণনা করেন। এই কূপের ধাপের মধ্যে এক স্থানে তিনটা নাগমুত্তি অপর একস্থানে একটী শিবলিজ দেখিলাম প্রতিদিন নাগ নাগেশ্বর শিবের পুজা হইয়া থাকে। ইহার কিছুদুরে অফ্টধাতুনিশ্ম্িতা, স্ববুহৎ মুকুটপবিশোভিতা সিংহোপরি অধিষ্ঠিত বাগীশ্বরী দেবী এবং রাম, লক্ষমণ, সীতা, নবগ্রহ, জ্বরহরেশ্বর প্রভৃতি বহু তীর্থ দেবমন্দির দর্শনান্তে দশাশ্বমেধ ঘাটে উপস্থিত হইলাম কাশীখণ্ডে বর্ণিত আছে যে পিতামহ ব্রহ্ম রাজধি দিবোদীসের সহায়তায় এস্থানে দশটা অশ্বমেধ যজ্জ করেন-_ সেজন্য ইহার নাম দশাশ্বমেধ তীর্থ হয় এবং সেনামেই এখন পরিচিত কাশীর মধ্যে ইহ! একটী মহাতীর্থ, এস্থানে প্রায় ৬৯২টী দেবমন্দির আছে। এস্বানে যেরূপ দেবমন্দির সমূহ ঘন সন্নিবিষ্ট তদ্রুপ কাশীর আর কোথাও নাই সারি সারি মন্দিরগুলি দেখিতে পরম রমণীয়। নগরের পশ্চিম সীমান্তে পিশাচ-মোচন তীর্থ অবস্থিত “কৃুর্্পুরাণ” প্রভৃতি প্রাচীন গ্রন্থেও ইহার উল্লেখ আছে পিশীচ- মোচনের শান্দরের পূর্ববপার্স্থ মন্দির দুইটী রাণী মীরাবাই নিন্মাণ করিয়া হধাকুণ্ |. দিয়াছেন। পিশাচ-মোচন তীর্থ দর্শনানম্তর আমরা সূর্য্যকুণ্ড সাসবাদিত্য তীর্থ। দেখিতে আসিলাম। কাশীখণ্ডে বণিত আছে যে কৃষ্ণের অভিশাপে কুষ্টরোগাক্রান্ত সাম্ব সূর্য্যদেবের তপস্যা দ্বারা ব্যাধিমুক্ত হইবার আশায় কাশীতে আগমন করিয়া স্থানে একটা কুণু নির্মাণ পূর্বক

নাগকৃপ তীর্থ।

দশাশ্বমেধ ঘাট

পিশাচ-ষোচন তীর্থ

১৩

ভারভ-ভ্রমণ |

সূধ্যদেবের আরাধনা করিয়া রোগমুক্ত হইয়াছিলেন। সান্ব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই বিগ্রহ সে জন্য সাম্বাদিত্য নামে পরিচিত হইয়া আসিতেছে ইহাকে ভক্তিসহকারে অর্চনা করিলে মানুষ সর্নবপ্রকারের পাপ হইতে বিমুক্ত হইয়া সর্বপ্রকার সম্পদ লাভ করিয়া থাকে। স্ত্রীলোকে ইহার সেবা করিলে সে কখনও বিধবা হয় না। বর্তমান সময়ে এই তীর্থ সূধ্যকুণ্ড নামেই খ্যাত। এই কুণ্ডের সম্মুখে একটী ছোট মন্দিরের মধ্যে অষ্টাঙজ তৈরবের মুক্তি বিরাজিতা আছেন, গুরঙ্গজেব কর্তৃক এই মু্তির অঙ্গহীনতা সম্পাদিত হইয়াছে ইহার নিকটেই হরিভক্ত প্রুবের প্রতিষ্ঠাপিত ধবলিজ বা ফ্ুবেশ্বরের মন্দির দেখিতে পাওয়া যায়। কাশীর প্রধান বিশেষত্ব এই যে বারোমাস সমভাবে এখানে যাত্রীসমাগম হয়---আর এমন দেব-মন্দির দেখিতে পাইবে না যে স্থানে ভতক্তনরনারীর সমাবেশ নাই পুরুষ অপেক্ষা আবার স্ত্রীলোকের সংখ্যাই বেশী